BookCrossing তথ্য ফাঁস
BookCrossing-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অ্যাকাউন্টের তথ্য বেরিয়ে আসে বইকেন্দ্রিক সামাজিক নেটওয়ার্কটির একটি পুরোনো ডেটাবেস ব্যাকআপ থেকে। নেটওয়ার্কটি bookcrossing.com ডোমেইনে পরিচিত। ফাঁস হওয়া তথ্য 2012 সালের নভেম্বরের; পরে প্রকাশিত ও যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, এর প্রভাবের আওতায় রয়েছে 15,82,323টি অ্যাকাউন্ট। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: তথ্য ফাঁসের কথা জানার সময় এবং তথ্যগুলো যে সময়ের, তার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে, ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।
উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন
7- জন্মতারিখ
- ইমেইল ঠিকানা
- ভৌগোলিক অবস্থান
- IP ঠিকানা
- নাম
- পাসওয়ার্ড
- ব্যবহারকারীর নাম
এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে
BookCrossing-এর কমিউনিটিতে ব্যবহারকারীরা বইয়ের তথ্য নথিবদ্ধ ও শেয়ার করতে পারেন এবং ছাপা বই কার কাছ থেকে কার কাছে যাচ্ছে, তা অনুসরণ করতে পারেন। তাই ফাঁস হওয়া তথ্য শুধু লগইনের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না; এর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের বাস্তব পরিচয়, অবস্থান এবং পাঠক কমিউনিটিতে তাঁদের প্রোফাইলের যোগসূত্রও তৈরি করা যায়। যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রেকর্ডগুলোতে জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থান, IP ঠিকানা, নাম, ব্যবহারকারীর নাম এবং প্লেইন টেক্সটে রাখা পাসওয়ার্ড রয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি
এই ঘটনায় ফাঁস হওয়া তথ্যের নিশ্চিত ধরনগুলো হলো জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থান, IP ঠিকানা, নাম, পাসওয়ার্ড এবং ব্যবহারকারীর নাম। ইমেইল ঠিকানা ও ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মধ্যে মিল খোঁজা যায়, আর নাম ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে ফিশিং বার্তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায়। ভৌগোলিক অবস্থান ও IP ঠিকানার ঘরগুলো ব্যবহারকারীর সাধারণ এলাকা বা কমিউনিটিতে তাঁর কার্যক্রম সম্পর্কে বাড়তি ধারণা দিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, পাসওয়ার্ডগুলো প্লেইন টেক্সটে সংরক্ষিত। এর অর্থ, আক্রমণকারী কোনো পাসওয়ার্ড ভাঙার প্রক্রিয়া ছাড়াই সেগুলো পড়তে পারেন। ব্যবহারকারী অন্য অ্যাকাউন্টেও একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকলে ঝুঁকি শুধু BookCrossing অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকে না। ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কেনাকাটা, ফোরাম এবং অন্য বইকেন্দ্রিক কমিউনিটির অ্যাকাউন্টগুলোতে একই পাসওয়ার্ড বা কাছাকাছি ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হলে দ্রুত সেগুলো বদলানো উচিত।
যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা
এই রেকর্ডের যাচাইকৃত পরিসরে রয়েছে 15,82,323টি অ্যাকাউন্ট এবং সাতটি প্রধান ধরনের তথ্য। এর অন্তর্ভুক্ত তথ্যগুলো হলো জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থান, IP ঠিকানা, নাম, পাসওয়ার্ড এবং ব্যবহারকারীর নাম। পেমেন্ট কার্ড, ফোন নম্বর, ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু বা সরকারি পরিচয়পত্র এই রেকর্ডের যাচাইকৃত তথ্যের ধরনগুলোর মধ্যে নেই। ব্যবহারকারীকে দেওয়া ঝুঁকি মূল্যায়ন এই সীমার বাইরে নেওয়া উচিত নয়।
তথ্য ফাঁসের উৎস 2012 সালের একটি ডেটাবেস ব্যাকআপ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পাসওয়ার্ডগুলো পুরোনো হতে পারে; তবে এতে ঝুঁকি দূর হয় না। অনেক ব্যবহারকারী বছরের পর বছর পুরোনো ধরনের পাসওয়ার্ড পুনরায় ব্যবহার করেন বা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে থাকেন। তাই রেকর্ড পুরোনো বলে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যখন প্লেইন টেক্সটে রাখা পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীরা
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন যাঁদের BookCrossing অ্যাকাউন্ট আছে এবং যাঁরা অন্য অ্যাকাউন্টেও একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। বইকেন্দ্রিক কমিউনিটিতে আসল নাম, শহরের তথ্য বা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা ডাকনাম বিভিন্ন প্রোফাইলের মধ্যে মিল খুঁজে বের করা সহজ করতে পারে। ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে জন্মতারিখ ও অবস্থানের তথ্য মিলিয়ে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে ভুয়া কমিউনিটি বিজ্ঞপ্তি, বই শেয়ার করার আমন্ত্রণ বা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বার্তা তৈরি করা যেতে পারে।
সাবেক সদস্যরাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোনো ব্যবহারকারী 2012 সালের পর থেকে অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার না করলেও, সে সময় অন্য কোথাও একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকলে ঝুঁকি থেকে যায়।
জরুরি করণীয়
আপনার তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে, BookCrossing অ্যাকাউন্টে কোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন এবং অন্য কোন অ্যাকাউন্টে একই ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, তা শনাক্ত করুন। প্লেইন টেক্সটে পাসওয়ার্ড ফাঁসের ঝুঁকির কারণে এই পাসওয়ার্ড আর কোথাও ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও দীর্ঘ পাসওয়ার্ড তৈরি করুন; ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কেনাকাটা, ক্লাউড স্টোরেজ এবং কাজের অ্যাকাউন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে এই প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য হয়।
জন্মতারিখ, নাম ও অবস্থানের মতো ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ায় আপনাকে লক্ষ্য করে আরও ব্যক্তিগতভাবে সাজানো ফিশিং বার্তা আসতে পারে, এ জন্য প্রস্তুত থাকুন। পাওয়া বার্তার লিংক দিয়ে লগইন না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবায় যান, অপ্রত্যাশিত সংযুক্তি খুলবেন না এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের তথ্য হালনাগাদ করুন। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোতে দুই-উপাদানভিত্তিক প্রমাণীকরণ চালু করুন এবং পুরোনো পাসওয়ার্ডের বিভিন্ন পরিবর্তিত রূপ ব্যবহার করবেন না।
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল
BookCrossing-এর ঘটনাটি দেখায় যে কমিউনিটি ও শখের বিষয়ভিত্তিক সাইটের তথ্য থেকেও ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করা যায়। বই, ফোরাম, গেম ও আগ্রহভিত্তিক কমিউনিটিতে আপনার শেয়ার করা নাম, শহর, জন্মতারিখ ও ব্যবহারকারীর নামের মতো তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করুন। আর ব্যবহার করেন না এমন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন, বন্ধ করা যায় না এমন অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং সবার জন্য উন্মুক্ত প্রোফাইল থেকে অপ্রয়োজনীয় তথ্য সরিয়ে ফেলুন।
এই ঘটনা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পরিচালকদের মনে করিয়ে দেয় যে বর্তমান ব্যবস্থার মতো পুরোনো ব্যাকআপও সুরক্ষিত রাখা দরকার। ডেটাবেস ব্যাকআপ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হলে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, এনক্রিপশন, সংরক্ষণের মেয়াদ এবং মুছে ফেলার প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও পরিচালনা করা উচিত। ব্যবহারকারীদের জন্য পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়েছে কি না যাচাই করা, বহু-উপাদানভিত্তিক প্রমাণীকরণ ব্যবহার করা এবং পুরোনো অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলা নিয়মিত নিরাপত্তা অভ্যাসের অংশ হওয়া উচিত।
রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়
প্রথমে এই অ্যাকাউন্টে কোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নির্ধারণ করুন। এরপর একই পাসওয়ার্ড বা তার কাছাকাছি কোনো পরিবর্তিত রূপ এখনো অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না যাচাই করুন। মিল পাওয়া গেলে বিষয়টিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দিন, বিশেষ করে পাসওয়ার্ড প্লেইন টেক্সটে থাকার কারণে।
পাসওয়ার্ড মনে না থাকলেও, 2012 সাল ও তার আগে ব্যবহার করা পুরোনো ধরনের পাসওয়ার্ডগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করুন। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, দুই ধাপে যাচাই চালু করুন, ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করা ভুয়া বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন এবং আর ব্যবহার করেন না এমন কমিউনিটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন। এসব পদক্ষেপ BookCrossing-এর তথ্য ফাঁস থেকে তৈরি হতে পারে এমন অ্যাকাউন্ট দখল, ফিশিং এবং বিভিন্ন প্রোফাইলের মধ্যে মিল খুঁজে বের করার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি
LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।
অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান