তথ্য সমৃদ্ধকরণের রেকর্ড
তথ্য সমৃদ্ধকরণের রেকর্ড হলো ব্যক্তিগত প্রোফাইলের বিস্তারিত তথ্যের একটি সংগ্রহ, যা তথ্য সমৃদ্ধকরণ প্রোফাইল হিসেবে বিক্রি করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এটি কোনো একক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা নয়। 2016 সালের ডিসেম্বরে জানানো হয়, 20 কোটিরও বেশি প্রোফাইল বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। এসব রেকর্ডে 80 লাখেরও বেশি স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানা এবং অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রোফাইল-সংক্রান্ত বহু তথ্যের ক্ষেত্র ছিল।
উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন
1টি সংবেদনশীল16- রাজনৈতিক অনুদান
- কেনাকাটার পছন্দ
- দাতব্য অনুদান
- ঋণের অবস্থার তথ্য
- জন্মতারিখ
- ইমেইল ঠিকানা
- পারিবারিক কাঠামো
- আর্থিক বিনিয়োগ
- বাড়ির মালিকানার অবস্থা
- আয়ের মাত্রা
- পদবি
- বৈবাহিক অবস্থা
- নাম
- নিট সম্পদের পরিমাণ
- ফোন নম্বর
- বাসা বা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
এই রেকর্ড সম্পর্কে
বিক্রেতা দাবি করেন, তথ্যগুলো একটি নির্দিষ্ট বড় ঋণতথ্য সংস্থা থেকে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এই দাবি অস্বীকার করে। তাই এই রেকর্ডের অবস্থা অযাচাইকৃতই রাখতে হবে এবং কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে এর নিশ্চিত উৎস হিসেবে উল্লেখ করা উচিত নয়। তা সত্ত্বেও, তথ্যের ক্ষেত্রগুলোর গঠন থেকে বোঝা যায় যে পরিচয় ও প্রোফাইলের নিরাপত্তার দিক থেকে রেকর্ডটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি
তথ্য সমৃদ্ধকরণের রেকর্ড এন্ট্রিতে নথিভুক্ত তথ্যের বিভাগ হিসেবে কেনাকাটার পছন্দ, দাতব্য অনুদানের তথ্য, ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থার তথ্য, জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, পারিবারিক কাঠামোর তথ্য, আর্থিক বিনিয়োগের তথ্য, বাড়ির মালিকানার অবস্থা, আয়ের স্তরের তথ্য, চাকরির পদবি, বৈবাহিক অবস্থার তথ্য, নাম ও পদবির তথ্য, নিট সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ, ফোন নম্বর, বাসা বা কার্যালয়ের ঠিকানা এবং রাজনৈতিক অনুদানের তথ্য বিবেচনা করতে হবে। কেনাকাটার পছন্দ ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও ভোগের অভ্যাসের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন বা প্রতারণামূলক বার্তা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। দাতব্য অনুদানের তথ্য থেকে একজন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহী, সে সম্পর্কে সংবেদনশীল ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থার তথ্য থেকে আর্থিক নির্ভরযোগ্যতা ও ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে অনুমান করা যেতে পারে। জন্মতারিখ স্থায়ী ব্যক্তিগত তথ্য, যা পরিচয় যাচাইয়ের প্রশ্ন, বয়সভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং প্রোফাইলের তথ্য সমৃদ্ধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ইমেইল ঠিকানা লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং, পাসওয়ার্ড রিসেটের ফাঁদ এবং বিভিন্ন সেবায় থাকা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে মিল খুঁজতে ব্যবহার করা যেতে পারে। পারিবারিক কাঠামোর তথ্য পরিবারের প্রোফাইল, অভিভাবকত্ব বা পারিবারিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ায়। আর্থিক বিনিয়োগের তথ্য ভুয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব, পরামর্শসেবা বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের বার্তায় ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির মালিকানার অবস্থা বন্ধকি ঋণ, বীমা, আবাসন বা ঋণ-সংক্রান্ত প্রতারণায় লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য কাজে লাগতে পারে। আয়ের স্তরের তথ্য থেকে একজন ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা অনুমান করে তাকে লক্ষ্য করে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ানো যেতে পারে। চাকরির পদবি কর্তৃত্বের স্তর, বিভাগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। বৈবাহিক অবস্থার তথ্য পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে ভিত্তি করে লক্ষ্যভিত্তিক বার্তায় ব্যবহার করা যেতে পারে। নাম ও পদবির তথ্য ভুয়া সহায়তা, পণ্য সরবরাহ, চালান ও গ্রাহকসেবার বার্তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। নিট সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ বেশি সম্পদশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করতে এবং ব্যক্তিভেদে আর্থিক প্রতারণা সাজাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোন নম্বর SMS, ফোনকল ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে সাজানো প্রতারণার সুযোগ তৈরি করে। বাসা বা কার্যালয়ের ঠিকানা পণ্য সরবরাহ, বিল, সাবস্ক্রিপশন ও স্থানীয় সেবার বিষয়বস্তু ব্যবহার করে সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণামূলক বার্তা তৈরিতে কাজে লাগতে পারে। রাজনৈতিক অনুদানের তথ্য থেকে একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রবণতা সম্পর্কে সংবেদনশীল অনুমান করা যেতে পারে।
ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থা, আয়ের স্তর, নিট সম্পদ, বাড়ির মালিকানা, পারিবারিক কাঠামো, অনুদান ও রাজনৈতিক অনুদানের মতো তথ্য থেকে একজন ব্যক্তির আর্থিক ও সামাজিক প্রোফাইল সম্পর্কে খুব জোরালো অনুমান করা যেতে পারে। পাসওয়ার্ড না থাকলেও এ ধরনের প্রোফাইলের তথ্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণা ও কৌশলে প্রভাবিত করার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা
এই রেকর্ডটি তথ্য সমৃদ্ধকরণের রেকর্ড নামে পরিচিত প্রোফাইলের তথ্যের একটি সংগ্রহ। এর পরিসর কেনাকাটার পছন্দ, অনুদান, ঋণ-সংক্রান্ত অবস্থা, জন্মতারিখ, ইমেইল, পারিবারিক কাঠামো, বিনিয়োগ, বাড়ির মালিকানা, আয়, চাকরির পদবি, বৈবাহিক অবস্থা, নাম, নিট সম্পদ, ফোন, বাসা বা কার্যালয়ের ঠিকানা এবং রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সীমিত। কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে নিশ্চিত উৎস হিসেবে বর্ণনা করা উচিত নয়।
এই রেকর্ডে নেই এমন তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে বর্ণনা করা উচিত নয়। পেমেন্ট কার্ডের সম্পূর্ণ তথ্য, সরকারি পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত বার্তা, স্বাস্থ্যতথ্য, ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য বা ডিভাইসে থাকা বিষয়বস্তুর মতো ক্ষেত্র কেবল তখনই ঝুঁকি মূল্যায়নে যোগ করা উচিত, যখন সেগুলো রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উপস্থিত থাকে। এই লেখাটি যাচাইযোগ্য তথ্যের শ্রেণি এবং ঘটনাটির জানা সীমার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারী গোষ্ঠী
যাদের তথ্য ডেটা ব্রোকারের রেকর্ডে থাকতে পারে, যাদের ঠিকানা ও ফোনের তথ্য দীর্ঘদিন পরিবর্তিত হয়নি, যারা আর্থিক প্রোফাইলের তথ্যকে কাজে লাগানো প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এবং রাজনৈতিক বা অনুদানের তথ্যের ভিত্তিতে যাদের লক্ষ্য করা যেতে পারে, তারা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন।
যেসব ব্যবহারকারী বিভিন্ন সেবায় একই ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করেন, পুরোনো পাসওয়ার্ড পুনরায় ব্যবহার করেন, কাজের ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট আলাদা রাখেন না বা একাধিক প্ল্যাটফর্মে ফোন ও ঠিকানার তথ্য শেয়ার করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। তথ্য সংগ্রহ বা B2B প্রোফাইল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও শুধু একটি অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে নয়, বরং বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্রিত করে তৈরি প্রোফাইলের প্রভাব বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা উচিত।
জরুরি করণীয়
এই রেকর্ডে কোনো পাসওয়ার্ড নেই বলে প্রথম করণীয় পাসওয়ার্ড পরিবর্তন নয়। ব্যবহারকারীদের ঋণ, অনুদান, বিনিয়োগ, আবাসন, বীমা ও রাজনৈতিক প্রচারাভিযান-সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও ইমেইল সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত। পরিচয়, আয় বা ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হলে আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে সেই অনুরোধ যাচাই করা উচিত।
যেসব ব্যবহারকারীর তথ্যের সঙ্গে এই রেকর্ডের মিল পাওয়া যায়, তাদের একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড বদলানো, সম্ভব হলে দুই-ফ্যাক্টর প্রমাণীকরণ চালু করা এবং সাম্প্রতিক সেশনগুলো পরীক্ষা করা উচিত। যেসব রেকর্ডে পাসওয়ার্ড নেই কিন্তু যোগাযোগ বা প্রোফাইলের তথ্য আছে, সেসব ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত ফোনকল, অফার, ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব, অংশীদারত্বের প্রস্তাব ও যাচাইয়ের বার্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল
দীর্ঘমেয়াদে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার, প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা, দুই-ফ্যাক্টর প্রমাণীকরণ চালু করা এবং অ্যাকাউন্ট থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলার অভ্যাস ঝুঁকি কমায়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করলে বিভিন্ন তথ্য ফাঁসের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করা সহজ হয়। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ইমেইল ঠিকানা বা ইমেইল অ্যালিয়াস ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রোফাইলের তথ্য সহজে বদলানো যায় না বলে এই ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি। ব্যবহারকারীদের নিয়মিত ডেটা ব্রোকারের তালিকা থেকে নিজের তথ্য সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া, প্রকাশ্য ঠিকানা ও ফোন নম্বরের দৃশ্যমানতা, ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের বিবরণ পর্যালোচনা করা উচিত।
রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়
LeakData-তে যাচাই করলে বোঝা যায়, অনুসন্ধান করা ইমেইল ঠিকানাটি এই রেকর্ডে আছে কি না। মিল পাওয়া গেলেই যে সব তথ্যের ক্ষেত্র নিশ্চিতভাবে সেই ব্যবহারকারীর, তা নয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট সতর্কসংকেত। মিল না পাওয়ার ফল শুধু বোঝায় যে এই ডেটাসেটে কোনো মিল নেই; অন্য তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ওই তথ্য থাকার সম্ভাবনা এতে নাকচ হয় না।
মিল পাওয়ার ফল নির্দেশ করে যে ইমেইল ঠিকানাটি তথ্য সমৃদ্ধকরণের রেকর্ডে রয়েছে। এই ফলের অর্থ কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ভঙ্গ হয়েছে, এমন নয়। তবে অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রোফাইলের তথ্যের কারণে বিষয়টিতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি
LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।
অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান