সব তথ্য ফাঁস
১ ডিসেম্বর, ২০১৮ যাচাইকৃত অন্যান্য

Dubsmash: তথ্য ফাঁস

Dubsmash-এর তথ্য ফাঁস একটি বড় পরিসরের নিরাপত্তা ঘটনা। 2018 সালের ডিসেম্বরে ছোট ভিডিও ও বার্তা আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সামাজিক প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়। যাচাইকৃত পরিসরে 16,17,49,950টি স্বতন্ত্র অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তথ্য ফাঁসের তারিখ হিসেবে 1 ডিসেম্বর 2018 এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার তারিখ হিসেবে 25 ফেব্রুয়ারি 2019 ধরতে হবে। ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের সঙ্গে যুক্ত ইমেইল ঠিকানা, ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ডের তথ্য একই ডেটাসেটে রয়েছে। এই তথ্যগুলো একসঙ্গে থাকায় অ্যাকাউন্ট দখলের চেষ্টা, একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহারের ঝুঁকি এবং ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী সাজানো ফিশিং বার্তার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি তৈরি হয়।

১৬১.৭ মিলিয়ন
প্রতিবেদিত রেকর্ড
7
তথ্যের ধরন
অতি গুরুতর
গুরুতরতার মাত্রা
১০ অক্টো, ২০২৬
সর্বশেষ হালনাগাদ

নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

এই তথ্য ফাঁসে আপনি প্রভাবিত হয়েছেন কি না যাচাই করুন

আমার ইমেইল যাচাই করুন

উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন

7
  • ইমেইল ঠিকানা
  • ভৌগোলিক অবস্থান
  • নাম
  • পাসওয়ার্ড
  • ফোন নম্বর
  • কথা বলার ভাষা
  • ব্যবহারকারীর নাম

এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে

ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি

যাচাইকৃত তথ্যের ধরনগুলো হলো ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য, নাম, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর, কথ্য ভাষার তথ্য এবং ব্যবহারকারীর নাম। পাসওয়ার্ডের ফিল্ডটি PBKDF2 হ্যাশ মানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়েছে; তবু দুর্বল বা একাধিক জায়গায় ব্যবহৃত পাসওয়ার্ডের ঝুঁকি থেকে যায়। ইমেইল ঠিকানা, ব্যবহারকারীর নাম, নাম এবং ফোন নম্বর একসঙ্গে থাকায় আক্রমণকারীদের পক্ষে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে এমন বার্তা তৈরি করা সহজ হয়। অবস্থান ও ভাষার তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পাঠানো ফিশিং বার্তাকে আরও স্থানীয় ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব। তাই ঘটনাটিকে শুধু একটি পুরোনো সামাজিক ভিডিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ হিসেবে দেখা উচিত নয়; একই ইমেইল ঠিকানা বা পাসওয়ার্ড অন্য সেবায় ব্যবহার করা হয়ে থাকলে বর্তমান অ্যাকাউন্টগুলোর জন্যও ঝুঁকি থাকে।

যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা

Dubsmash-এর এই রেকর্ডটি 2018 সালের ডিসেম্বরের ভিডিও বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তুলে ধরে। অ্যাকাউন্টের যাচাইকৃত সংখ্যা হিসেবে 16,17,49,950 ব্যবহার করতে হবে। তথ্যের ফিল্ডগুলো হলো ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য, নাম, পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর, কথ্য ভাষা এবং ব্যবহারকারীর নাম। পাসওয়ার্ডের তথ্য হ্যাশ আকারে থাকাকে পাসওয়ার্ড ফিল্ডের একটি কারিগরি বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরতে হবে, আলাদা কোনো তথ্যের ধরন হিসেবে নয়। এই নির্দিষ্ট রেকর্ডের যাচাইকৃত ফিল্ডগুলোর মধ্যে পেমেন্ট কার্ডের তথ্য, ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু, পরিচয়পত্র বা প্লেইনটেক্সট পাসওয়ার্ড নেই। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনার তথ্য অন্য বিভিন্ন তথ্য ফাঁসের প্যাকেজের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার অর্থ এই নয় যে রেকর্ডের তারিখ বদলে গেছে; তথ্য ফাঁসের মূল সময়কাল 2018, আর যাচাইকৃত সংযোজনের তারিখ 2019 সালের।

ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীরা

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন সেই ব্যক্তিরা, যাঁরা তাঁদের Dubsmash অ্যাকাউন্টের ইমেইল ঠিকানা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল, কেনাকাটা, গেমিং বা আর্থিক অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করেন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহার করা হলে আক্রমণকারীরা অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে যোগসূত্র বের করতে পারে। যেসব ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর রয়েছে, তাঁদের ভুয়া সহায়তা কল, SMS প্রতারণা বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের বার্তার মাধ্যমে লক্ষ্য করা হতে পারে। কম বয়সী ব্যবহারকারী, পুরোনো ভিডিও কনটেন্টের জন্য পরিচিত অ্যাকাউন্ট এবং যাঁরা আর ব্যবহার করেন না এমন ইমেইল ঠিকানা ভুলে গেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম মনে হলেও তা থেকে যায়। প্ল্যাটফর্মটি পরে বন্ধ হয়ে গেলেও বা অন্য সেবার সঙ্গে একীভূত হলেও, অতীতে ফাঁস হওয়া পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মিল এখনও কাজে লাগানো যায়।

অবিলম্বে করণীয়

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারী হিসেবে আপনার প্রথমে Dubsmash অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড এবং একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অন্য সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলানো উচিত। ইমেইল অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল, ক্লাউড স্টোরেজ, কেনাকাটার অ্যাকাউন্ট এবং পেমেন্টের ব্যবস্থা যুক্ত থাকা সেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড বেছে নিন এবং যেখানে সম্ভব বহুধাপের যাচাইকরণ চালু করুন। ফোন নম্বরের মাধ্যমে আসা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের বার্তা এবং পুরস্কারের প্রলোভন দেখানো লিংক সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অপরিচিত সেশন বন্ধ করুন, সংযুক্ত অ্যাপগুলো পর্যালোচনা করুন এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ইমেইল ঠিকানা হালনাগাদ করুন। পুরোনো Dubsmash অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা সম্ভব না হলে একই ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করা অন্য অ্যাকাউন্টগুলো আরও সতর্কভাবে পরীক্ষা করুন।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল

দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনের অ্যাপে ব্যবহৃত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রধান ইমেইল ও আর্থিক অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে আলাদা রাখা উচিত। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা সহজ হয়। পুরোনো বা বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাপে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানাগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে না তা নিশ্চিত করা উচিত। যেসব সামাজিক অ্যাপে ফোন নম্বর ও অবস্থানের তথ্য দিতে হয়, সেখানে যতটা সম্ভব কম তথ্য শেয়ার করা উচিত। অনেক প্ল্যাটফর্মে একই ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে মিল খুঁজে বের করার ঝুঁকি বাড়ে; তাই ভিন্ন ধরনের ব্যবহারের জন্য ভিন্ন নাম বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন নিয়ন্ত্রণপ্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা কর্মীদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড কর্মক্ষেত্রের সিস্টেমে ব্যবহার করা ঠেকায়।

রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়

LeakData-তে Dubsmash-এর ফলাফল দেখা গেলে বোঝা যায় যে ইমেইল ঠিকানাটি 2018 সালের সামাজিক ভিডিও প্ল্যাটফর্মের ডেটাসেটে রয়েছে। এই ফলাফল এ কথা বোঝায় না যে ব্যবহারকারী বর্তমানে একই সেবা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছেন; তবে এটি দেখায় যে অতীতের ইমেইল ঠিকানা, ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ডের মিলযুক্ত তথ্য ছড়িয়ে থাকতে পারে। আপনার প্রথমে সেই সময়ে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ডগুলো মনে করার চেষ্টা করা উচিত, তারপর অন্য অ্যাকাউন্টে একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড আছে কি না পরীক্ষা করা উচিত। ইমেইল অ্যাকাউন্ট ও নিয়মিত ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলগুলো আগে পরীক্ষা করুন। ঘটনাটির মূল সময়কাল 2018 সালের ডিসেম্বর, আর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার যাচাইকৃত সময় 2019 সালের ফেব্রুয়ারি। এই সময়রেখা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পর্দায় ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বলে ভুল ধারণা তৈরি হওয়া ঠেকায় এবং ঝুঁকির প্রকৃত সময়কাল সঠিকভাবে তুলে ধরে।

যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি

LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।

অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান