সব তথ্য ফাঁস
১ জানুয়ারি, ২০১৮ যাচাইকৃত খুচরা ব্যবসা

Elanic: তথ্য ফাঁস

Elanic-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ভারতের সেকেন্ড-হ্যান্ড ফ্যাশনপণ্যের অনলাইন বাজারটির ব্যবহারকারীরা প্রভাবিত হয়েছেন। ঘটনাটি একটি পুরোনো পরীক্ষামূলক সার্ভার থেকে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। নিবন্ধন ব্যবস্থায় তথ্য ফাঁসের তারিখ 1 জানুয়ারি 2018 হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, তথ্যগুলো জানুয়ারি 2020-এ একটি জনপ্রিয় হ্যাকিং ফোরামে প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিও স্বীকার করেছে যে তথ্যগুলো একটি পুরোনো পরীক্ষামূলক সার্ভার থেকে এসেছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: ঘটনাটি 2020 সালে প্রকাশ্যে এলেও উল্লেখ করা হয়েছে যে তথ্যসমষ্টিতে 2016-2018 সময়কালের পুরোনো ব্যবহারকারীর রেকর্ড রয়েছে।

২.৩ মিলিয়ন
প্রতিবেদিত রেকর্ড
3
তথ্যের ধরন
অতি গুরুতর
গুরুতরতার মাত্রা
১০ অক্টো, ২০২৬
সর্বশেষ হালনাগাদ

নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

এই তথ্য ফাঁসে আপনি প্রভাবিত হয়েছেন কি না যাচাই করুন

আমার ইমেইল যাচাই করুন

উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন

3
  • ইমেইল ঠিকানা
  • ভৌগোলিক অবস্থান
  • ব্যবহারকারীর নাম

এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে

Elanic-এর এই রেকর্ডে প্রায় 28 লাখ সারি এবং 23,25,283টি স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানার হিসাব রয়েছে। ব্যবহারকারীকে দেখানো প্রধান সংখ্যাটি স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানার সংখ্যা বোঝায়। সারির হিসাবে একই ব্যক্তির একাধিক বা অতিরিক্ত প্রোফাইল রেকর্ড থাকতে পারে। যাচাইকৃত তথ্যের ধরন হলো ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থান ও ইউজারনেম। এই রেকর্ডের যাচাইকৃত পরিসরে পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট কার্ড বা বাসা বা অন্য স্থানের ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। মূল ঝুঁকি হলো বিভিন্ন প্রোফাইলের মধ্যে মিল খুঁজে বের করা, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ফিশিং এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কাজে লাগানো।

ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি

এই ঘটনায় ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম ও ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে ব্যবহারকারীর প্রোফাইল সম্পর্কে একটি অর্থবহ ধারণা পাওয়া যায়। ইমেইল ঠিকানা ওই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেয়। ইউজারনেমটি একই ব্যক্তির বিভিন্ন ফ্যাশন, কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কমিউনিটি অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত ছদ্মনামের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য ব্যবহার করে আক্রমণকারী শহর, অঞ্চল বা স্থানীয় বাজারের প্রসঙ্গ যোগ করে বার্তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।

পাসওয়ার্ড ফাঁসের বিষয়টি যাচাই করা হয়নি বলে এই রেকর্ডকে সরাসরি পরিচয় চুরির ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। তা সত্ত্বেও, ইমেইল ও ইউজারনেম একসঙ্গে পাওয়া ফিশিং এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের নামে প্রতারণা শুরু করার জন্য যথেষ্ট। ফ্যাশনপণ্যের অনলাইন বাজারের প্রেক্ষাপটে ভুয়া অর্ডার, পণ্য ফেরত, ডেলিভারি, অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ, কুপন বা বিক্রেতা যাচাইয়ের বার্তা আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ কথাবার্তা যোগ করা হলে বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়তে পারে।

যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা

Elanic-এর ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে যাচাইকৃত পরিসর হলো 23,25,283টি স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানা। মোট সারির সংখ্যা প্রায় 28 লাখ বলে জানানো হয়েছে, তাই সারির সংখ্যাকে প্রভাবিত স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা হিসেবে ধরা উচিত নয়। এই রেকর্ডকে পুরোনো পরীক্ষামূলক সার্ভারের তথ্য উন্মুক্ত হওয়া বা অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে। ঘটনাটি জানুয়ারি 2020-এ প্রকাশ্যে আসে; তবে তথ্যের বয়স থেকে বোঝা যায়, সেগুলো 2016-2018 সময়কালের।

যাচাইকৃত তথ্যের ধরন হলো ইমেইল ঠিকানা, ভৌগোলিক অবস্থান ও ইউজারনেম। ফোন নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংক, পেমেন্ট কার্ড, পাসওয়ার্ড, বাসা বা অন্য স্থানের ঠিকানা, ব্যক্তিগত বার্তা বা পরিচয়পত্রকে এই রেকর্ডের যাচাইকৃত তথ্য হিসেবে দেখানো উচিত নয়। কিছু গৌণ মূল্যায়নে আরও বেশি ধরনের তথ্য থাকার দাবি দেখা যেতে পারে। তবে ব্যবহারকারীকে দেখানো এই রেকর্ডে প্রধান তথ্যের ধরনগুলো সীমিত রাখা উচিত। এতে ঝুঁকি সঠিকভাবে বোঝানো যায় এবং যাচাই না হওয়া ব্যক্তিগত তথ্যের দাবি দিয়ে ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করা হয় না।

ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারী গোষ্ঠী

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন সেই ব্যবহারকারীরা, যাঁরা Elanic-এ কেনাকাটা করেন, পণ্য বিক্রি করেন বা তাঁদের প্রোফাইলে অবস্থানের তথ্য যুক্ত করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য করে ভুয়া ক্রেতা বা বিক্রেতার বার্তা, পণ্য ফেরতের অনুরোধ, ডেলিভারির হালনাগাদ বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের বার্তা পাঠানো হতে পারে। ইমেইল ঠিকানা ও ইউজারনেম একসঙ্গে পাওয়া গেলে আক্রমণকারী খোঁজ নিতে পারে, ওই ব্যক্তি অন্য অনলাইন বাজার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টেও একই ইউজারনেম ব্যবহার করেন কি না।

ভারতীয় বাজারে পুরোনো ধাঁচের ও সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্য কেনাকাটার জন্য অ্যাকাউন্ট রয়েছে এমন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অবস্থানসংক্রান্ত প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক কথাবার্তা, শহরের নাম বা স্থানীয় ডেলিভারিতে ব্যবহৃত ভাষা থাকলে বার্তা আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের ইমেইল ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি দেখা দিতে পারে ব্যক্তিগত কেনাকাটার অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে কর্মক্ষেত্রের অ্যাকাউন্টে আসা লক্ষ্যভিত্তিক বার্তার মাধ্যমে। তাই ব্যবহারকারীদের শুধু Elanic অ্যাকাউন্ট নয়, একই ইমেইল ও ইউজারনেম দিয়ে খোলা অন্য অ্যাকাউন্টগুলোও পর্যালোচনা করা উচিত।

জরুরি করণীয়

Elanic-এর রেকর্ডে আপনার ইমেইল ঠিকানা থাকলে প্রথমেই ওই ঠিকানায় আসা ফ্যাশনপণ্যের অনলাইন বাজার, ডেলিভারি, পণ্য ফেরত, কুপন ও অ্যাকাউন্ট যাচাইসংক্রান্ত বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। বার্তার লিংকে ক্লিক না করে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের ওয়েব ঠিকানা নিজে ব্রাউজারে লিখে যাচাই করা বেশি নিরাপদ। এই রেকর্ডে পাসওয়ার্ড ফাঁস নিশ্চিত না হলেও, একই সময়ে ব্যবহার করা পুরোনো পাসওয়ার্ডগুলো দুর্বল হলে বা একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত হয়ে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হালনাগাদ করা ভালো।

আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্টে অচেনা লগইন, ইমেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর নিয়ম এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ইমেইল ঠিকানা যাচাই করুন। অন্য অনলাইন বাজার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বা ফোরামে একই ইউজারনেম ব্যবহার করে থাকলে সেসব অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সেটিংস পর্যালোচনা করুন। যেসব সেবায় দুই ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা আছে, সেগুলোতে তা চালু করুন। অবস্থানের তথ্যের অপব্যবহার কমাতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত প্রোফাইলে শহর, পাড়া বা ডেলিভারি এলাকার অপ্রয়োজনীয় বিবরণ দেবেন না।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল

Elanic-এর ঘটনা দেখায় যে পরীক্ষামূলক পরিবেশ ও পুরোনো তথ্য সংরক্ষণের পরিবেশকে মূল কার্যক্রমের তথ্যের মতোই যত্ন নিয়ে সুরক্ষিত রাখতে হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষামূলক সার্ভারে প্রকৃত ব্যবহারকারীর তথ্য রাখা উচিত নয়। রাখার প্রয়োজন হলে সংবেদনশীল অংশ আড়াল করা এবং প্রবেশাধিকার সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরোনো তথ্য বর্তমান ব্যবস্থা থেকে আলাদা রাখলেই ব্যবহারকারীর ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম ও অবস্থানের তথ্য দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং বহু বছর পরেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পাঠানো বার্তায় ব্যবহার করা হতে পারে।

ব্যবহারকারীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করা, কেনাকাটা ও অনলাইন বাজারের অ্যাকাউন্টে স্বতন্ত্র ইউজারনেম রাখা এবং প্রোফাইলে অপ্রয়োজনীয় তথ্য কমানো। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের দলগুলোর উচিত ব্যক্তিগত অনলাইন বাজারের অ্যাকাউন্টে কর্মীদের অফিসের ইমেইল ব্যবহার কমানো এবং ফাঁস হওয়া ইমেইলের সংকেতগুলোকে ফিশিং সচেতনতা ও একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের নীতির সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা। এই পদ্ধতি পাসওয়ার্ডবিহীন তথ্য ফাঁসের ক্ষেত্রেও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রভাব কমায়।

রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়

এই রেকর্ডে আপনার ইমেইল ঠিকানা থাকার অর্থ এই নয় যে আপনার পাসওয়ার্ড বা পেমেন্ট কার্ডের তথ্য ফাঁস হয়েছে। তবে এটি ইঙ্গিত করে যে আপনার ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কোনো তথ্যসমষ্টিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তাই ইনবক্সে আসা ভুয়া কেনাকাটা, ডেলিভারি, পণ্য ফেরত বা অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত সতর্কবার্তার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকুন। পুরোনো Elanic অ্যাকাউন্টটি আর ব্যবহার না করলে সেটি বন্ধ করা বা প্রবেশাধিকার সীমিত করার উপায় বিবেচনা করুন।

সঠিক পদক্ষেপ হলো ঝুঁকি বাড়িয়ে না দেখা, আবার প্রোফাইলের তথ্যকেও তুচ্ছ মনে না করা। আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা যাচাই করুন, একই ইউজারনেম ব্যবহার করা অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করুন, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপে পরিচয় যাচাই চালু করুন এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলুন। Elanic-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনা দেখায় যে পাসওয়ার্ড না থাকা রেকর্ডও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রতারণা এবং বিভিন্ন প্রোফাইলের মধ্যে মিল খুঁজে বের করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করতে পারে।

যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি

LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।

অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান