সব তথ্য ফাঁস
১ অক্টোবর, ২০২১ যাচাইকৃত সংবেদনশীল রেকর্ড অন্যান্য

Fitmart: তথ্য ফাঁস

2021 সালের অক্টোবরে জার্মানিভিত্তিক ফিটনেস ও ক্রীড়া পুষ্টিপণ্যের খুচরা বিক্রেতা Fitmart-এর গ্রাহকদের তথ্যে অননুমোদিত ব্যক্তিরা প্রবেশ করে এবং পরে সেই তথ্য অনলাইনে আবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাটি Fitmart-এর তথ্য ফাঁস হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। যাচাইকৃত স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানার সংখ্যা 2,14,492। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা ডেটাসেটে ইমেইল ঠিকানার পাশাপাশি পাসওয়ার্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া, গ্রাহকদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও জন্মতারিখের মতো ব্যক্তিগত তথ্যও প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। পেমেন্ট কার্ড বা ব্যাংকের তথ্য ফাঁসের কোনো দাবি যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়নি।

২১৪.৫ হাজার
প্রতিবেদিত রেকর্ড
6
তথ্যের ধরন
উচ্চ
গুরুতরতার মাত্রা
১০ অক্টো, ২০২৬
সর্বশেষ হালনাগাদ

নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

এই তথ্য ফাঁসে আপনি প্রভাবিত হয়েছেন কি না যাচাই করুন

আমার ইমেইল যাচাই করুন

উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন

6
  • জন্মতারিখ
  • ইমেইল ঠিকানা
  • নাম
  • পাসওয়ার্ড
  • ফোন নম্বর
  • বাসা বা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা

এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে

ক্রীড়া পুষ্টিপণ্য, সাপ্লিমেন্ট ও ফিটনেস পণ্য কেনেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য Fitmart-এর ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইমেইল ও পাসওয়ার্ডের তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট দখলের চেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, নাম ও যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করে পণ্য পাঠানো, ফেরত নেওয়া, প্রচারমূলক অফার বা গ্রাহকসেবার নামে ভুয়া বার্তা পাঠানো হতে পারে। পাসওয়ার্ডগুলো পরে সরাসরি পড়া যায় এমন টেক্সট আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে যে দাবি রয়েছে, তা ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ, এতে আক্রমণকারীদের পক্ষে অন্য অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা সহজ হয়। তাই ঘটনাটিকে শুধু একটি দোকানের অ্যাকাউন্টের সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি

এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যেসব তথ্য নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়েছে, সেগুলো হলো ইমেইল ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড। গ্রাহকদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও জন্মতারিখের মতো তথ্যও প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিটি রেকর্ডে সব ধরনের তথ্য আছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়, তবে গ্রাহকের প্রোফাইল ও যোগাযোগের তথ্যের ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে আক্রমণকারী ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে ব্রুট-ফোর্স আক্রমণ চালাতে পারে, আর ঠিকানা ও ফোনের তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণার চেষ্টা আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।

পাসওয়ার্ডের তথ্যই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। Fitmart অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্য ই-কমার্স, ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং, ফোরাম বা কাজের অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করা হলে, আক্রমণকারীরা বিভিন্ন সেবায় একই ইমেইল-পাসওয়ার্ডের সমন্বয় দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। ক্রীড়া পুষ্টিপণ্য বা সাপ্লিমেন্ট কেনার ইতিহাস ব্যবহার করেও পণ্যসংক্রান্ত ভুয়া প্রচারণা, সদস্যপদ নবায়নের বিজ্ঞপ্তি, পণ্য পাঠানোর ফি বা পণ্য ফেরত নেওয়ার নিশ্চিতকরণ বার্তা তৈরি করা হতে পারে। কোনো বার্তায় আপনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য আছে বলেই সেটিকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়া উচিত নয়।

যাচাইকৃত পরিসর ও সীমাবদ্ধতা

যাচাইকৃত স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানার সংখ্যা 2,14,492, এবং ঘটনাটি 2021 সালের অক্টোবরের। Fitmart-এর জন্য ট্র্যাক করা ডোমেইনটি হলো fitmart.de। ঘটনাটি জার্মানিভিত্তিক ফিটনেস পণ্যের খুচরা বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত। ফাঁস হওয়া তথ্যের যে সেট সম্পর্কে সবচেয়ে স্পষ্ট নিশ্চিতকরণ রয়েছে, তাতে ইমেইল ঠিকানা ও পাসওয়ার্ডের তথ্য অন্তর্ভুক্ত। গ্রাহকদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু ব্যক্তিগত তথ্য প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তাই এই রেকর্ডে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও জন্মতারিখের ঝুঁকিও আলাদাভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

এই রেকর্ডে পেমেন্ট কার্ড নম্বর, কার্ডের নিরাপত্তা কোড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের ব্যালান্স, সরকারি পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু যাচাইকৃত তথ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। পেমেন্ট ও ব্যাংকের তথ্য না থাকায় ঝুঁকি কমে; তবে পাসওয়ার্ড, ইমেইল ও গ্রাহকের যোগাযোগের তথ্য একসঙ্গে থাকলে এখনও অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ‘আমার কার্ডের তথ্য ফাঁস হয়েছে’, এমন ধারণার ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিয়ে, ব্যবহারকারীদের একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার এবং গ্রাহকসেবার নামে ভুয়া যোগাযোগকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীরা

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন সেই গ্রাহকেরা, যাঁরা Fitmart অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করেন। বিভিন্ন কেনাকাটার সাইট, ইমেইল অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল বা ফিটনেস অ্যাপে একই ইমেইল ও পাসওয়ার্ডের সমন্বয় ব্যবহার করা হলে, আক্রমণকারীরা সেগুলো দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করার ঝুঁকি বাড়ে। পুরোনো পাসওয়ার্ডে সামান্য পরিবর্তন করে আবার ব্যবহার করেন এমন ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকা উচিত; আক্রমণকারীরা একই ধরনের বিন্যাসের পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

যাঁদের ঠিকানা, ফোন নম্বর বা জন্মতারিখের তথ্য প্রভাবিত হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা প্রতারণার চেষ্টার ঝুঁকি বেশি। ক্রীড়া সাপ্লিমেন্টের অর্ডার, পণ্য পৌঁছাতে দেরি, পণ্য ফেরত, সদস্যপদের ছাড় বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রচারের কথা বলা বার্তাগুলো আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট ও ফিটনেস পণ্য কেনার তথ্য থেকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও জীবনযাপন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে আপনার কাছে আসা লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন, জরিপ বা সহায়তার নামে ফোনকলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

জরুরি করণীয়

Fitmart অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত। একই পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করা হলে, সেগুলোর সবকটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করে প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা, দীর্ঘ ও এলোমেলো পাসওয়ার্ড তৈরি করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। ইমেইল অ্যাকাউন্ট বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখা উচিত, কারণ কেনাকাটার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের লিংক সাধারণত ইমেইল ইনবক্সেই আসে। ইমেইল অ্যাকাউন্টে দুই-উপাদানভিত্তিক প্রমাণীকরণ চালু না থাকলে, তা চালু করা উচিত।

Fitmart, পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবাদাতা বা গ্রাহকসেবার নামে আসা বার্তার কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ডোমেইনের মাধ্যমে বার্তাটি যাচাই করা উচিত। ঠিকানা বা অর্ডারসংক্রান্ত বার্তা বাস্তব মনে হতে পারে; তবে পাসওয়ার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য কোড, অতিরিক্ত অর্থ বা পরিচয়পত্র চাওয়া হলে, সেই অনুরোধ আলাদা কোনো মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। ফোনকারী আপনার নাম বা ঠিকানা জানেন, শুধু এটুকু তাঁর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ নয়।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল

Fitmart-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনা দেখায় যে ই-কমার্স অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীদের প্রতিটি দোকানের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং পুরোনো কেনাকাটার অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত ঠিকানা, ফোন নম্বর ও জন্মতারিখের মতো তথ্য কমিয়ে আনা উচিত। ই-কমার্স সাইটে নিবন্ধনের সময় অপ্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়া এবং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি চালু রাখা একই ধরনের ঘটনার প্রভাব কমায়।

খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শক্তিশালী অ্যালগরিদম দিয়ে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ না করা এবং কোনো ঘটনার পর গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে তার পরিসর জানানো বাধ্যতামূলক। ফিটনেস ও সাপ্লিমেন্ট পণ্যের মতো ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যের ক্ষেত্রে গ্রাহকের তথ্যকে শুধু যোগাযোগের তথ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। কেনাকাটার প্রেক্ষাপট, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হলে এই তথ্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই তথ্য সংরক্ষণ ন্যূনতম পর্যায়ে রাখা, নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা এবং তথ্যে প্রবেশের ওপর নজরদারিকে স্থায়ী নিরাপত্তা কৌশলের অংশ করা উচিত।

রেকর্ড যাচাই ও আপনার করণীয়

এই রেকর্ডে আপনার ইমেইল ঠিকানা থাকলে, Fitmart অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অন্য অ্যাকাউন্টগুলো যাচাই করুন। শুধু Fitmart-এ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা যথেষ্ট নাও হতে পারে। যেসব ইমেইল, কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াবিষয়ক অ্যাপের অ্যাকাউন্টে আপনি একই বা কাছাকাছি ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, সেগুলোর প্রতিটিতে আলাদা পাসওয়ার্ড দিন। সন্দেহজনক লগইনের সতর্কবার্তা, অপ্রত্যাশিত পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের বার্তা বা আপনার অজানা কোনো অর্ডার কার্যক্রম দেখলে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস পর্যালোচনা করুন।

Fitmart-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পেমেন্ট ও ব্যাংকের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করা না হলেও, ইমেইল, পাসওয়ার্ড ও গ্রাহকের যোগাযোগের তথ্যের ঝুঁকি বেশি। সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ হলো একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার বন্ধ করা, দুই-উপাদানভিত্তিক প্রমাণীকরণ দিয়ে ইমেইল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা, পণ্য পাঠানো ও ফেরত নেওয়াসংক্রান্ত বার্তা সতর্কভাবে যাচাই করা এবং পুরোনো ই-কমার্স অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমিয়ে আনা। এসব পদক্ষেপ Fitmart-এর রেকর্ড থেকে তৈরি হওয়া সরাসরি প্রভাব কমানোর পাশাপাশি, আগে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অন্য অ্যাকাউন্টগুলোকেও সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি

LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।

অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান