Foodora তথ্য ফাঁস
অনলাইন খাবার সরবরাহ সেবা Foodora-এর গ্রাহকদের তথ্য এপ্রিল 2016-তে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং পরে বিভিন্ন মাধ্যমে আবার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি Foodora-এর তথ্য ফাঁস হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। যাচাইকৃত পরিসরে রয়েছে 5,82,578টি স্বতন্ত্র ইমেইল অ্যাকাউন্ট। ঘটনাটি একাধিক দেশের Foodora গ্রাহকদের প্রভাবিত করা একটি বহুজাতিক ডেটাসেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে ইমেইল ঠিকানা, পুরো নাম, ফোন নম্বর, ডেলিভারির ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড-সংক্রান্ত তথ্য। পাসওয়ার্ডগুলো bcrypt বা সল্টযুক্ত MD5 হ্যাশ আকারে সংরক্ষিত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন
5- ইমেইল ঠিকানা
- নাম
- পাসওয়ার্ড
- ফোন নম্বর
- বাসা বা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে
Foodora-এর এই নথি দেখায়, খাবার সরবরাহ সেবাগুলোর কাছে থাকা গ্রাহকের তথ্য দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ডেলিভারির ঠিকানা, ফোন নম্বর ও নাম ব্যবহার করে আক্রমণকারীরা শুধু অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টাই করতে পারে না, বরং ডেলিভারি, অর্ডার, পণ্য ফেরত, কুপন বা গ্রাহকসেবার বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। পেমেন্ট কার্ড বা ব্যাংকের তথ্য যাচাইকৃত পরিসরের অন্তর্ভুক্ত নয়; তবু ইমেইল, ফোন, ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড হ্যাশ একসঙ্গে থাকায় বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি
এই নথিতে নিশ্চিত হওয়া তথ্যের ধরন হলো ইমেইল ঠিকানা, নাম, ফোন নম্বর, বাস্তব ডেলিভারির ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড। পাসওয়ার্ডগুলো সরাসরি পাঠযোগ্য অবস্থায় নয়, বরং bcrypt বা সল্টযুক্ত MD5 হ্যাশ আকারে সংরক্ষিত। bcrypt-কে পাসওয়ার্ড হ্যাশ করার একটি শক্তিশালী পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও MD5-ভিত্তিক হ্যাশ তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কোনো ব্যবহারকারী ছোট, সহজে অনুমানযোগ্য বা অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড বেছে নিয়ে থাকলে, হ্যাশ আকারে সংরক্ষণ করলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।
খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে ডেলিভারির ঠিকানা ও ফোন নম্বর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণকারীরা ভুয়া অর্ডার বিজ্ঞপ্তি, ডেলিভারির পরিবর্তন, কুপন, পণ্য ফেরত, গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের বার্তা তৈরি করতে এই তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সঠিক হলে বার্তাটি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। তাই Foodora-এর তথ্য ফাঁস শুধু পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তার ঝুঁকি নয়, বরং বাস্তব ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে মানুষকে প্রভাবিত করার, অর্থাৎ সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ঝুঁকিও তৈরি করে।
যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা
যাচাইকৃত স্বতন্ত্র ইমেইলের সংখ্যা 5,82,578। ঘটনার তারিখ হিসেবে 22 এপ্রিল 2016 নথিভুক্ত রয়েছে এবং এটি Foodora খাবার সরবরাহ সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডেটাসেটটিতে একাধিক দেশের তথ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রধান যাচাইকৃত তথ্যগুলো হলো নাম, ইমেইল, ফোন, ডেলিভারির ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড হ্যাশ। রেকর্ডের সংখ্যা মূল্যায়ন করতে হবে স্বতন্ত্র ইমেইল অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে; কাঁচা রেকর্ড বা অর্ডারের এন্ট্রির সংখ্যা ব্যবহারকারীর সংখ্যার ঠিক সমান বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
এই নথিতে পেমেন্ট কার্ড নম্বর, কার্ডের নিরাপত্তা কোড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সরকারি পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু যাচাইকৃত তথ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। কার্ডের তথ্য ফাঁস হয়েছে ধরে নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে, ব্যবহারকারীদের ডেলিভারির ঠিকানা ও ফোনের তথ্য কাজে লাগিয়ে পাঠানো ভুয়া যোগাযোগ, অ্যাকাউন্টে প্রবেশের তথ্য পরীক্ষা করে চালানো আক্রমণ এবং একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহারের ঝুঁকিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যের ধরন এই বিবরণে যোগ করা উচিত নয়, তবে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত প্রভাবও খাটো করে দেখা উচিত নয়।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীরা
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন সেই গ্রাহকেরা, যাঁরা Foodora অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করেন। ইমেইল, কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, খাবার অর্ডার বা অর্থ পরিশোধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন সেবায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্টে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টার ঝুঁকি বাড়ে। যাঁদের ডেলিভারির ঠিকানা ও ফোন নম্বর ফাঁস হয়েছে, তাঁদের ভুয়া পণ্য বা খাবার সরবরাহের পরিস্থিতি তৈরি করে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। পুরোনো অর্ডারের ইতিহাস মনে না থাকলেও একই যোগাযোগের তথ্য বছরের পর বছর কার্যকর থাকতে পারে।
যাঁরা একাধিক দেশে Foodora সেবা ব্যবহার করেছেন বা ভ্রমণের সময় অর্ডার করেছেন, তাঁদের কোন দেশের অ্যাকাউন্ট প্রভাবিত হয়েছে তা স্পষ্টভাবে মনে না-ও থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে অতীতে কোন কোন ডেলিভারি সেবায় ইমেইল ও ফোনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। ঠিকানার তথ্য বদলে গেলে ঝুঁকি কমতে পারে; তবে ইমেইল ও ফোন এখনও সক্রিয় থাকলে আক্রমণকারীরা নতুন প্রতারণামূলক অভিযানে এই তথ্য আবার ব্যবহার করতে পারে।
জরুরি করণীয়
Foodora অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড অবিলম্বে বদলানো উচিত। একই পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও থাকলে, প্রতিটিতে আলাদা পাসওয়ার্ড দিতে হবে। ইমেইল অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ খাবার সরবরাহ ও কেনাকাটার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড রিসেট করার লিংক সাধারণত ইমেইল ইনবক্সে আসে। ইমেইল অ্যাকাউন্টে দ্বি-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাই (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু না থাকলে তা চালু করা উচিত। পুরোনো Foodora পাসওয়ার্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন পাসওয়ার্ডও বদলানো উচিত।
খাবার সরবরাহ, কুপন, টাকা ফেরত, ঠিকানা যাচাই বা অর্ডার বাতিলের বার্তায় কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে অফিসিয়াল অ্যাপ বা ডোমেইনের মাধ্যমে যাচাই করুন। ফোন করা ব্যক্তি আপনার নাম, ঠিকানা বা আগের কোনো অর্ডারের বিবরণ জানেন বলেই তিনি বিশ্বাসযোগ্য, এমন নয়। আপনার পাসওয়ার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য কোড, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ বা কার্ডের তথ্য চাওয়া হলে আলাদা কোনো মাধ্যমে সেই অনুরোধের সত্যতা যাচাই করুন। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি করে এমন ভুয়া যোগাযোগের পরিস্থিতিতে মনোযোগ দিন।
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার কৌশল
Foodora-এর ঘটনাটি খাবার সরবরাহ ও একই ধরনের দৈনন্দিন সেবার অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে। ব্যবহারকারীদের উচিত যেসব ডেলিভারি অ্যাকাউন্ট তাঁরা আর ব্যবহার করেন না, সেগুলো বন্ধ করা, সংরক্ষিত ঠিকানা ও ফোনের তথ্য কমানো এবং প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। বাসা বা চাকরি বদলানোর পর পুরোনো ডেলিভারির ঠিকানা অচল হয়ে গেলেও, আক্রমণকারীরা দীর্ঘদিন ইমেইল ও ফোনের তথ্য ব্যবহার করতে পারে।
সেবাদাতাদের দিক থেকে, অর্ডার সম্পন্ন করতে যত দিন প্রয়োজন কেবল তত দিনই গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত। পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের পদ্ধতিতে শক্তিশালী অ্যালগরিদম ব্যবহার করতে হবে এবং একাধিক দেশে ব্যবহৃত সিস্টেমগুলোর প্রবেশাধিকারের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। Bcrypt-এর মতো শক্তিশালী পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং পুরোনো MD5-ভিত্তিক হ্যাশ ব্যবহার করা উচিত নয়। ডেলিভারির ঠিকানা, ফোন নম্বর ও নাম একসঙ্গে থাকলে, সেগুলো অর্থ পরিশোধের তথ্য না হলেও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নথি যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়
আপনার ইমেইল ঠিকানা এই নথিতে থাকলে, Foodora বা সংশ্লিষ্ট খাবার সরবরাহ অ্যাকাউন্টে আপনি যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন তা পরীক্ষা করুন। যেসব অ্যাকাউন্টে একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, প্রতিটিতে আলাদা পাসওয়ার্ড দিন। দ্বি-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাই (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) দিয়ে আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন এবং খাবার সরবরাহের অ্যাপগুলোতে সংরক্ষিত ফোন ও ঠিকানার তথ্য পর্যালোচনা করুন। অপ্রত্যাশিত অর্ডার, কুপন, টাকা ফেরত বা ঠিকানা যাচাইয়ের বার্তা সরাসরি অফিসিয়াল মাধ্যমে যাচাই করুন।
Foodora-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পেমেন্ট কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টি যাচাই করা হয়নি; তবে নাম, ইমেইল, ফোন, ডেলিভারির ঠিকানা ও পাসওয়ার্ড হ্যাশ একসঙ্গে থাকায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়। সবচেয়ে যথাযথ পদক্ষেপ হলো একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার বন্ধ করা, ইমেইল অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা জোরদার করা, ডেলিভারির ছদ্মবেশে পাঠানো ফিশিং বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং পুরোনো খাবার অর্ডারের অ্যাকাউন্টে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য কমানো। এসব পদক্ষেপ Foodora অ্যাকাউন্টের ওপর সরাসরি প্রভাব এবং একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে এমন অন্য অ্যাকাউন্টগুলোর ঝুঁকি, দুটিই কমায়।
যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি
LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।
অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান