Ge.tt তথ্য ফাঁস
Ge.tt-এ 2017 সালের মে মাসে ঘটে যাওয়া তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে। এতে এই ফাইল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট প্রভাবিত হয়েছিল। নিশ্চিত হওয়া পরিসর হলো 24,81,121টি স্বতন্ত্র ইমেইল রেকর্ড। সংশ্লিষ্ট তথ্যের ধরনগুলো হলো ইমেইল ঠিকানা, নাম, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ID এবং SHA-256 পাসওয়ার্ড হ্যাশ। পরে বিভিন্ন কোম্পানির ডেটাসেটের সঙ্গে বিক্রির জন্য দেওয়া একটি বড় আর্কাইভে এই ঘটনার তথ্য দেখা যায়। তবে এই রেকর্ডগুলো কেবল Ge.tt-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের যাচাইকৃত পরিসরকে নির্দেশ করে। ফাইলের বিষয়বস্তু, ব্যক্তিগত ফাইল লিংক, পেমেন্ট কার্ড, ফোন নম্বর, বাসা বা অন্য স্থানের ঠিকানা, সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য কিংবা প্লেইনটেক্সট পাসওয়ার্ড এই ঘটনায় যাচাইকৃত তথ্যের ধরনগুলোর মধ্যে নেই। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে অপব্যবহার, সোশ্যাল প্রোফাইল মেলানো এবং ফাইল শেয়ারিং অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে ফিশিংয়ের চেষ্টা, এসব দিক থেকে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা উচিত।
উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন
4- ইমেইল ঠিকানা
- নাম
- পাসওয়ার্ড
- সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল
এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে
ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি
এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় নাম, ইমেইল ঠিকানা, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ID এবং SHA-256 পাসওয়ার্ড হ্যাশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। SHA-256 হ্যাশ মানেই প্লেইনটেক্সট পাসওয়ার্ড নয়। তবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য শুধু এই হ্যাশ ব্যবহারকে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কোনো পাসওয়ার্ড ছোট, সহজে অনুমানযোগ্য বা অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহৃত হলে আক্রমণকারীরা হ্যাশ ক্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় লগইন চেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ইমেইল, ক্লাউড স্টোরেজ, সোশ্যাল মিডিয়া বা ফাইল শেয়ারিং অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিভিন্ন প্রোফাইলের মধ্যে মিল খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইমেইল ঠিকানা ও নামের সঙ্গে সোশ্যাল প্রোফাইলের লিংক মিলিয়ে দেখলে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর পরিচয়ের মধ্যে যোগসূত্র বের করা সহজ হয়। ফাইল শেয়ারিং সেবার নামে আসা ভুয়া শেয়ারিং লিংক, নিরাপত্তা সতর্কবার্তা বা ফাইল ডাউনলোডের বিজ্ঞপ্তি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। তাই ব্যবহারকারীর শুধু পাসওয়ার্ডের ঝুঁকি নয়, লিংক ও ফাইলের প্রসঙ্গ ব্যবহার করে চালানো ফিশিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কেও সচেতন থাকা উচিত।
যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা
এই রেকর্ডের যাচাইকৃত সংখ্যা 24,81,121 হিসেবেই রাখতে হবে। এই সংখ্যা স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানার পরিসর নির্দেশ করে; প্রতিটি রেকর্ড একজন আলাদা বাস্তব ব্যক্তির বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ডেটাসেটটি কোনো বড় বিক্রয় আর্কাইভের অন্তর্ভুক্ত হলেও, শুধু সে কারণে অন্য কোম্পানির সংখ্যা বা তথ্যের ক্ষেত্রগুলো Ge.tt রেকর্ডে যোগ করা যায় না। পরিসর কেবল যাচাইকৃত Ge.tt তথ্যের মধ্যেই সীমিত রাখতে হবে।
যাচাইকৃত তথ্যের ক্ষেত্রগুলো হলো ইমেইল ঠিকানা, নাম, পাসওয়ার্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল। পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রটি SHA-256 হ্যাশ হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। ফোন নম্বর, বাসা বা অন্য স্থানের ঠিকানা, পেমেন্ট কার্ড, সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, IP ঠিকানা, ফাইলের বিষয়বস্তু, ব্যক্তিগত ফাইল লিংক, ডাউনলোডের ইতিহাস বা প্লেইনটেক্সট পাসওয়ার্ড রেকর্ডে যোগ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো যাচাইকৃত ক্ষেত্র নয়। এই সীমা বজায় রাখলে ব্যবহারকারীকে সঠিক ঝুঁকির মাত্রা জানানো যায় এবং ফাইল শেয়ারিংয়ের প্রেক্ষাপট ধরে অযাচাইকৃত ক্ষেত্র যোগ করা ঠেকানো যায়।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীরা
যাঁরা Ge.tt অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করেন, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ফাইল শেয়ারিং সেবাগুলো প্রায়ই ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। একই ইমেইল বা পাসওয়ার্ড অন্য ক্লাউড স্টোরেজ, ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা কাজের অ্যাকাউন্টেও ব্যবহৃত হলে, আক্রমণকারীরা অ্যাকাউন্ট দখলের চেষ্টায় এই যোগসূত্র কাজে লাগাতে পারে।
যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের পরিচয়েই ফাইল শেয়ারিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকা উচিত। নাম, ইমেইল ও সোশ্যাল প্রোফাইল ID একসঙ্গে পাওয়া গেলে ভুয়া ফাইল শেয়ারিং, চুক্তি, চালান, পোর্টফোলিও বা মিডিয়া লিংকের প্রসঙ্গ ব্যবহার করে বার্তা তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে যাঁরা কাজের ফাইল, প্রকল্প শেয়ারিং বা মিডিয়া ডাউনলোডের বার্তা পান, তাঁদের লিংকের সত্যতা যাচাই না করে ফাইল খোলা উচিত নয়।
জরুরি করণীয়
এই রেকর্ডে আপনার ইমেইল ঠিকানা থাকলে নিশ্চিত করুন, Ge.tt অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পুরোনো পাসওয়ার্ডটি অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। অন্য সেবায় একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকলে তা অবিলম্বে বদলে দীর্ঘ, স্বতন্ত্র ও অনুমান করা কঠিন এমন পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহারের ঝুঁকি কমে। SHA-256 হ্যাশ ব্যবহার করলেই একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার নিরাপদ হয়ে যায় না।
ইমেইল, ক্লাউড স্টোরেজ, সোশ্যাল মিডিয়া ও কাজের অ্যাকাউন্টে বহু-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাই চালু করা উচিত। ফাইল শেয়ারিং, ডাউনলোডের বিজ্ঞপ্তি, নিরাপত্তা সতর্কবার্তা বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের প্রসঙ্গে কোনো বার্তা পেলে তার লিংক দিয়ে লগইন করা এড়িয়ে চলুন; নিজে টাইপ করে অফিসিয়াল সাইটের ঠিকানায় যান। অপ্রত্যাশিত সংযুক্তি ও ফাইল লিংক খোলার আগে প্রেরক এবং ডোমেইন নাম যাচাই করুন। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে দেওয়া ইমেইল ও যোগাযোগের তথ্যও পর্যালোচনা করা উচিত।
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল
Ge.tt-এর ঘটনাটি দেখায়, ফাইল শেয়ারিং অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত লগইন তথ্যের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইমেইল অ্যাকাউন্টের যোগসূত্র থাকলে আরও বিস্তৃত ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যবহারকারীদের ক্লাউড, ফাইল শেয়ারিং, ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত নয়। পুরোনো ফাইল শেয়ারিং অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া বা স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে আলাদা রাখা উচিত। অনেক সেবায় একই সোশ্যাল প্রোফাইল লিংক ব্যবহার করলে প্রোফাইল মেলানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সেবাদাতাদের জন্য মূল শিক্ষা হলো, পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুধু সাধারণ হ্যাশ ফাংশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় এবং সোশ্যাল প্রোফাইলের শনাক্তকারী অপ্রয়োজনীয় সময় ধরে রাখা উচিত নয়। পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য গণনার খরচ যথাযথভাবে নির্ধারিত এমন আধুনিক পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যেসব ঘটনায় তথ্য শেয়ার করা ও বিক্রয় আর্কাইভের বিষয় জড়িত থাকে, সেগুলোতে কোন ক্ষেত্রগুলো প্রভাবিত হয়েছে তা ব্যবহারকারীদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। ফাইলের বিষয়বস্তু প্রভাবিত না হলে সেই সীমাটিও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত।
রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়
Ge.tt-এর তথ্য ফাঁসের রেকর্ড যাচাইয়ের সময় ফলাফল দেখায়, দেওয়া ইমেইল ঠিকানাটি এই যাচাইকৃত ডেটাসেটে আছে কি না। মিল পাওয়া গেলে ইমেইল ঠিকানা, নাম, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ID এবং SHA-256 পাসওয়ার্ড হ্যাশকে ঝুঁকির আওতায় বিবেচনা করা উচিত। মিল না পাওয়ার অর্থ হলো, এই নির্দিষ্ট ডেটাসেটে কোনো মিল পাওয়া যায়নি; এতে প্রমাণ হয় না যে ওই ব্যক্তির তথ্য অন্য কোনো ফাইল শেয়ারিং বা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় জড়িত নয়।
ব্যবহারকারীর সঠিক করণীয় হলো পুরোনো পাসওয়ার্ডের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা, একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত সব পাসওয়ার্ড বদলানো, ইমেইল ও ক্লাউড অ্যাকাউন্টে বহু-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাই চালু করা, সোশ্যাল প্রোফাইলের সংযোগগুলো পর্যালোচনা করা এবং ফাইল শেয়ারিংয়ের প্রসঙ্গ ব্যবহার করে পাঠানো ভুয়া বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকা। এই রেকর্ডের অর্থ এই নয় যে ফাইলের বিষয়বস্তু ফাঁস হয়েছে। তবে লগইন তথ্য ও সোশ্যাল প্রোফাইলের প্রেক্ষাপটের কারণে এটি নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে চালানো ফিশিংয়ের ঝুঁকি তৈরি করে।
যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি
LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।
অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান