সব তথ্য ফাঁস
১ জানুয়ারি, ২০২০ যাচাইকৃত সংবেদনশীল রেকর্ড ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য উন্মুক্ত হওয়া অন্যান্য

Nameless Malware 2020: ম্যালওয়্যারজনিত তথ্য ফাঁস

Nameless Malware তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি 2018 থেকে 2020 সালের মধ্যে Windows কম্পিউটারকে লক্ষ্য করে চালানো একটি বিশেষায়িত ট্রোজান অভিযানে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই রেকর্ডে 11,21,484টি স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানা রয়েছে এবং এটি 9 জুন 2021-এ পরিচিত তথ্য ফাঁসের ডেটাসেটগুলোতে যুক্ত করা হয়। এ ঘটনাকে একটি কোম্পানির গ্রাহকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়; ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত ডিভাইসে সংরক্ষিত সেশন, ফাইল ও লগইন তথ্যের অবশিষ্টাংশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য এসেছে।

১.১ মিলিয়ন
ইমেইল শনাক্তকারী
8
তথ্যের ধরন
অতি গুরুতর
তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার পরিসর
১০ অক্টো, ২০২৬
সর্বশেষ হালনাগাদ

এই পরিসর ম্যালওয়্যারে প্রভাবিত ব্যক্তিদের অবহিত করতে সহায়তার জন্য সরবরাহ করা স্বতন্ত্র ইমেইল শনাক্তকারীর সংখ্যা বোঝায়; এটি প্রভাবিত ব্যক্তি বা ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা নিশ্চিত করে না।

ডিভাইস ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করুন

ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে উন্মুক্ত হওয়া এই তথ্যে আপনার ইমেইল শনাক্তকারী আছে কি না যাচাই করুন

আমার ইমেইল যাচাই করুন

উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন

8
  • ইমেইল ঠিকানা
  • ব্যবহারকারীর নাম
  • পাসওয়ার্ড
  • ব্রাউজারের কুকি
  • ডিভাইসের তথ্য
  • ফাইল
  • ছবি
  • পেমেন্টের তথ্য

এই রেকর্ড সম্পর্কে

গবেষণা প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, এই অভিযানে 3.25 মিলিয়ন কম্পিউটার আক্রান্ত হয়, মোট 1.2 TB ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং এতে বিপুল পরিমাণ লগইন তথ্য, ব্রাউজার কুকি, ফাইল, স্ক্রিনশট ও ক্যামেরায় তোলা ছবি ছিল। LeakData-তে যাচাইয়ের সময় মূলত ইমেইল ঠিকানার মাধ্যমে মিল পাওয়া যায়; তবে ব্যবহারকারীর করণীয় শুধু ইমেইল-সংক্রান্ত ঝুঁকির মধ্যে সীমিত রাখা উচিত নয়। এই রেকর্ডকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি হলে পাসওয়ার্ড, সেশন ও ব্যক্তিগত ফাইল একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি

যাচাই করা অনুসন্ধানযোগ্য তথ্যক্ষেত্রটি হলো ইমেইল ঠিকানা। পাশাপাশি, ঘটনাটির কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ম্যালওয়্যারটি লগইন তথ্য, ব্যবহারকারীর নাম, পাসওয়ার্ড, ব্রাউজার কুকি, ডিভাইস শনাক্তকারী, ডেস্কটপ ও ডাউনলোডস ফোল্ডারের ফাইল, স্ক্রিনশট, ক্যামেরায় তোলা ছবি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্ম পূরণের তথ্য এবং অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত তথ্যের কিছু অবশিষ্টাংশকে লক্ষ্য করে। এসব তথ্য একই ডিভাইস থেকে এলে আক্রমণকারী শুধু অ্যাকাউন্ট সম্পর্কেই নয়, ওই ব্যক্তির ডিভাইস ব্যবহারের অভ্যাস ও সেশনের ইতিহাস সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারে।

ব্রাউজার কুকি বিশেষভাবে বিপজ্জনক; কিছু ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড না জেনেও সক্রিয় সেশনে প্রবেশাধিকার পাওয়া যেতে পারে। ফাইল ও ছবি পরিচয় চুরি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকি বাড়ায়। পাসওয়ার্ড বা ব্যবহারকারীর নামযুক্ত লগইন তথ্য অন্য সেবায় প্রবেশের চেষ্টায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব বিচ্ছিন্ন তথ্যকে ব্যবহারকারীর সঙ্গে যুক্ত করার প্রধান শনাক্তকারী হলো ইমেইল ঠিকানা; তাই মিল পাওয়া গেলে সেটিকে শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে নয়, ডিভাইসের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট দখলের ঝুঁকি হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।

যাচাই করা পরিধি ও সীমাবদ্ধতা

এই রেকর্ডে ঘটনাটির সময়কাল 2018-2020, রেফারেন্স তারিখ 1 জানুয়ারি 2020 এবং ডেটাসেটে যুক্ত করার তারিখ 9 জুন 2021। যাচাই করা স্বতন্ত্র ইমেইলের সংখ্যা 11,21,484। গবেষণায় উল্লিখিত 3.25 মিলিয়ন কম্পিউটার ও 1.2 TB তথ্য পুরো ম্যালওয়্যার অভিযানের ব্যাপক প্রভাব তুলে ধরে; LeakData-তে ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানে এই অভিযান থেকে পাওয়া স্বতন্ত্র ইমেইল ঠিকানাগুলোর পরিধি দেখা যায়।

ঘটনাটি কোনো নির্দিষ্ট ডোমেইন নাম বা ব্র্যান্ডের ডেটাবেসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাই কোম্পানির ওয়েবসাইট ও ডোমেইন ক্ষেত্রগুলো ফাঁকা থাকা উচিত। দেশ ক্ষেত্রটি বৈশ্বিক রাখা হয়েছে এবং খাতটি ম্যালওয়্যার ও তথ্যচোর সফটওয়্যার-সংক্রান্ত রেকর্ডের প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সরকারি পরিচয়পত্রের নম্বর, স্বাস্থ্য রেকর্ড বা নির্দিষ্ট কেনাকাটার ইতিহাস এই রেকর্ডের সাধারণ তথ্যশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত তথ্যকে শুধু গবেষণায় উল্লিখিত সফটওয়্যারে থেকে যাওয়া তথ্যের অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; প্রতিবার মিল পাওয়া গেলেই সম্পূর্ণ কার্ডের তথ্য রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয় না।

ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারী গোষ্ঠী

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন তাঁরা, যাঁরা 2018-2020 সময়কালে পাইরেটেড সফটওয়্যার, ভুয়া গেম, ক্র্যাকিং টুল বা ক্ষতিকর অ্যাড-অনযুক্ত ইমেইলের মাধ্যমে আক্রান্ত Windows কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন। একই ডিভাইসে ব্যক্তিগত ইমেইল, কর্মক্ষেত্রের অ্যাকাউন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং, ফাইল শেয়ারিং, ক্লাউড স্টোরেজ বা আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টগুলোতে লগইন করা থাকলে আক্রমণকারী শুধু পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নয়, সেশন কুকি ও স্থানীয় ফাইল থেকেও তথ্যের চিহ্ন পেয়ে থাকতে পারে।

করপোরেট ইমেইল ব্যবহারকারীদের ঝুঁকি আরও বেশি। কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত ডিভাইস বা পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই এমন কাজের কম্পিউটার থেকে সংগৃহীত কুকি ও পাসওয়ার্ড প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টায় ব্যবহার করা যেতে পারে। ছবি, নথি ও স্ক্রিনশটযুক্ত রেকর্ড পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণকারী ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনায় কোন সাইটে নিবন্ধিত আছেন, তার চেয়ে কোন ডিভাইসে কোন সেশন সক্রিয় রয়েছে, সেদিকে ব্যবহারকারীর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

জরুরি করণীয়

আপনার ইমেইলের সঙ্গে রেকর্ডের মিল পাওয়া গেলে প্রথমে ম্যালওয়্যারমুক্ত ও হালনাগাদ একটি ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড বদলান। ইমেইল অ্যাকাউন্ট, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ক্লাউড স্টোরেজ, কর্মক্ষেত্রের অ্যাকাউন্ট, গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও অর্থ পরিশোধের সেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। সক্রিয় সব সেশন বন্ধ করুন এবং যেসব সেবায় সেশন কুকি অকার্যকর করা সম্ভব, সেখানে সব ডিভাইস থেকে লগ আউট করার বিকল্পটি ব্যবহার করুন। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করে থাকলে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড বেছে নিন।

আক্রান্ত ডিভাইসটি এখনো ব্যবহার করলে নিরাপত্তা স্ক্যান চালান, অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার হালনাগাদ করুন, সন্দেহজনক অ্যাড-অন সরিয়ে ফেলুন এবং পাইরেটেড সফটওয়্যার অপসারণ করুন। ক্যামেরা, Downloads ফোল্ডার ও ডেস্কটপে সংবেদনশীল নথি রেখে দেওয়ার অভ্যাসটি পুনর্বিবেচনা করুন। বহু-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের সুরক্ষা চালু করুন; অপ্রত্যাশিত নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তি, ফাইল শেয়ারিং লিংক, গেমের পুরস্কার, চালান বা অ্যাকাউন্ট বন্ধের বার্তা পেলে শুধু পরিচিত লগইন পর্দা থেকেই পদক্ষেপ নিন।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল

এই ঘটনা দেখায়, ম্যালওয়্যার-সম্পর্কিত তথ্য ফাঁসের প্রভাব প্রচলিত ওয়েবসাইটের তথ্য ফাঁসের চেয়ে ব্যাপক। ব্যবহারকারীদের ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ সীমিত রাখা, বিশ্বস্ত পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা, নিয়মিত কুকি ও পুরোনো সেশন মুছে ফেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের জন্য হার্ডওয়্যার নিরাপত্তা চাবি বা অ্যাপভিত্তিক দুই-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাইকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাইরেটেড সফটওয়্যার ও ক্র্যাকিং টুল কম খরচের মনে হলেও অ্যাকাউন্ট ও ফাইলের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই রেকর্ড কর্মীদের ডিভাইসের নিরাপত্তা, এন্ডপয়েন্ট সুরক্ষা ও ব্রাউজার সেশন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে। শুধু করপোরেট সিস্টেমের তথ্য ফাঁস পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট নয়; তথ্যচোর সফটওয়্যার থেকে পাওয়া ইমেইল ও পাসওয়ার্ডের মিলও ঝুঁকির স্কোরে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাসওয়ার্ডের পুনর্ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থা, শর্তসাপেক্ষ প্রবেশাধিকার, ডিভাইসের নিরাপত্তাগত অবস্থা পরীক্ষা এবং সন্দেহজনক সেশন বন্ধ করার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়।

রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়

LeakData-তে এই রেকর্ডে ইমেইল ঠিকানা দিয়ে অনুসন্ধান করে মিল পাওয়া গেলে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট ঠিকানাটি Nameless Malware ডেটাসেটের 11,21,484টি স্বতন্ত্র ইমেইলের মধ্যে রয়েছে। এই ফলাফল নির্দেশ করে যে ডিভাইস থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে এমন পাসওয়ার্ড, কুকি, ফাইল, ছবি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্ম পূরণের তথ্যের ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। মিল না পাওয়ার অর্থ শুধু এই নির্দিষ্ট ডেটাসেটে কোনো মিল পাওয়া যায়নি; এতে অন্য ম্যালওয়্যার রেকর্ডে তথ্য থাকা বা ভিন্ন ইমেইল ব্যবহার করে থাকার সম্ভাবনা নাকচ হয় না।

সঠিক করণীয় হলো ম্যালওয়্যারমুক্ত ডিভাইস থেকে পাসওয়ার্ড বদলানো, সব সেশন বন্ধ করা, ম্যালওয়্যার স্ক্যান চালানো, বহু-উপাদানভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের সুরক্ষা চালু করা, সন্দেহজনক ফাইল ও লিংক এড়িয়ে চলা, সংবেদনশীল ফাইল এনক্রিপ্ট করা পরিবেশে রাখা এবং একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা। এই রেকর্ডকে কোনো নির্দিষ্ট ডোমেইনের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন একটি বৈশ্বিক ও সংবেদনশীল ম্যালওয়্যার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত; ব্যবহারকারীর সামনে ঝুঁকির বিষয়টি ইমেইলের মিল দিয়ে শুরু হয়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পূর্ণতা আসে ডিভাইসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে।

যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি

LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।

অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান