Acxiom নয়
‘Acxiom নয়’ তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি ব্যক্তিগত তথ্যের একটি বিশাল ডেটাসেটকে ঘিরে, যা 2020 সালে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রথমে ভুলভাবে একটি বড় বিপণন তথ্য সংস্থার বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যাচাইকৃত পরিসরে 5,17,30,831টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তথ্যের ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমেইল ঠিকানা, IP ঠিকানা, নাম, ফোন নম্বর ও বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা। ঘটনাটিকে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিশ্চিত তথ্য ফাঁস হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ডেটাসেটটির প্রকৃত উৎস নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি বলে এটিকে ভুল উৎসের সঙ্গে যুক্ত করা, অযাচাইকৃত বিপণন তথ্য ফাঁসের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন
5- ইমেইল ঠিকানা
- IP ঠিকানা
- নাম
- ফোন নম্বর
- বাসা বা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা
এই রেকর্ড সম্পর্কে
ব্যবহারকারীকে ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যগুলো বাস্তব ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হলেও, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম থেকে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়নি। তাই ঘটনাটিকে কোনো ব্র্যান্ডের সরাসরি নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তবু নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর, IP ও বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানার মতো তথ্য একসঙ্গে পাওয়া গেলে সেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে প্রতারণা, পরিচয়ের সঙ্গে তথ্য যুক্ত করা এবং যোগাযোগের মাধ্যমের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি
যাচাইকৃত তথ্যের ধরনগুলো হলো ইমেইল ঠিকানা, IP ঠিকানা, নাম, ফোন নম্বর ও বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা। ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানার সঙ্গে পরিচয় এবং IP ঠিকানার সঙ্গে ভৌগোলিক বা নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট যুক্ত করা যায়। এসব তথ্য একসঙ্গে থাকলে আক্রমণকারীদের পক্ষে নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপযোগী বার্তা ও ফোনকলের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সরকারি পরিচয়পত্রের নম্বর, স্বাস্থ্যতথ্য বা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু যাচাইকৃত তথ্যের মধ্যে নেই। তাই এই ঘটনাকে সরাসরি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। ঝুঁকি মূলত বিপণনমূলক প্রোফাইল তৈরি, পরিচয় মেলানো, গ্রাহক সহায়তার নামে ভুয়া যোগাযোগ, ডেলিভারির অজুহাত এবং ফোনে প্রতারণার চেষ্টার ক্ষেত্রে বেশি।
যাচাইকৃত পরিসর ও সীমা
ঘটনার পরিসর 21 জুন 2020 তারিখের ডেটাসেট এবং ক্ষতিগ্রস্ত 5,17,30,831টি অ্যাকাউন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রেকর্ডটি যুক্ত করার ও সর্বশেষ পরিবর্তনের তারিখ 22 নভেম্বর 2022 বলে যাচাই করা হয়েছে। ঘটনাটি কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট বা কোনো প্রতিষ্ঠানের যাচাইকৃত সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত নয় বলে ডোমেইন ক্ষেত্রটি খালি রাখা হয়েছে। যাচাইকৃত নির্দেশকটি বন্ধ রয়েছে এবং প্রকাশ্য উৎসের ক্ষেত্রটিও এই অবস্থা তুলে ধরতে ব্যবহার করা হয়েছে।
ভুল উৎসের সঙ্গে যুক্ত করার ঝুঁকি থাকায় এই বিবরণে ডেটাসেটটি কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন হওয়ার অপ্রমাণিত দাবি পুনরাবৃত্তি করা হয়নি। ডেটাসেটটি কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়, এই পার্থক্য বোঝাতে নামটি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তথ্যের উৎস অনিশ্চিত হলেও তালিকাভুক্ত ব্যক্তিগত তথ্যগুলো প্রতারণা এবং পরিচয়ের সঙ্গে তথ্য যুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারী গোষ্ঠী
প্রথম ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে রয়েছেন সেই ব্যক্তিরা, যাঁদের ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর ও বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা দেখা যাচ্ছে। ডেলিভারি, সাবস্ক্রিপশন, গ্রাহক সহায়তা, ব্যাংকের সতর্কবার্তা বা প্রচারণার নামে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। নাম ও ঠিকানার তথ্য বার্তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে; ফোন নম্বর সরাসরি কল ও SMS-এর মাধ্যমে প্রতারণায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে রয়েছেন যাঁরা বহু বছর ধরে বিভিন্ন সেবায় একই ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এই ডেটাসেটের সঙ্গে অন্য ফাঁস হওয়া তথ্য মেলানো হলে পাসওয়ার্ড পাওয়া না গেলেও আক্রমণকারী ওই ব্যক্তির পরিচয়, যোগাযোগের মাধ্যম ও সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে আরও ভালোভাবে অনুমান করতে পারে। IP ঠিকানার ইতিহাস, ঠিকানা ও ফোনের তথ্যের সঙ্গে এগুলো যুক্ত হলে ব্যক্তির প্রোফাইল তৈরির ঝুঁকি বাড়ে।
জরুরি করণীয়
তথ্যের মিল দেখতে পেলে ব্যবহারকারীদের প্রথমে ইমেইল ও ফোনে আসা অপ্রত্যাশিত বার্তাগুলোর দিকে সতর্ক নজর দেওয়া উচিত। ডেলিভারি, অ্যাকাউন্ট যাচাই, সাবস্ক্রিপশন নবায়ন, পেমেন্টের সতর্কবার্তা বা সহায়তার অনুরোধ বলে মনে হয় এমন বার্তা অন্য একটি যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে যাচাই করা উচিত। অপরিচিত কলকারীকে ঠিকানা, কার্ডের তথ্য, একবার ব্যবহারযোগ্য কোড বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
এই ঘটনায় পাসওয়ার্ডের উপস্থিতি যাচাই করা না হলেও ইমেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তার একটি মৌলিক ভিত্তি। ব্যবহারকারীদের ইমেইল অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী ও অন্য কোথাও ব্যবহার না করা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, বহু-উপাদানভিত্তিক প্রমাণীকরণ চালু করা এবং ফরওয়ার্ডিংয়ের নিয়ম ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের বিকল্পগুলো পরীক্ষা করা উচিত। ঠিকানা ও ফোনের তথ্য থাকায় পণ্য পাঠানো ও জনসেবা-সংক্রান্ত ভুয়া বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া উচিত।
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিগত তথ্য অপ্রয়োজনে বিভিন্ন সেবায় ছড়িয়ে পড়া কমানো। ফোন নম্বর, বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা এবং জন্মসংক্রান্ত তথ্যের মতো তথ্য শুধু সেসব প্ল্যাটফর্মেই দেওয়া উচিত, যেখানে সেগুলো সত্যিই প্রয়োজন। ব্যবহারকারীদের পুরোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, প্রোফাইলে সবার জন্য দৃশ্যমান তথ্য কমানো এবং ভিন্ন উদ্দেশ্যে ভিন্ন ইমেইল ঠিকানা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা উচিত।
প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূল শিক্ষা হলো, ডেটাসেটের উৎস অস্পষ্ট হয়ে গেলে ভুল উৎসের সঙ্গে যুক্ত করার ঝুঁকি ব্যবহারকারীর আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। কী কী তথ্য সংরক্ষিত আছে তার তালিকা, তথ্য ধরে রাখার মেয়াদ, তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত। ব্যবহারকারীর দিক থেকে সন্দেহজনক যোগাযোগ যাচাই করা, ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ভাগাভাগি কমানোই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়
কোনো ব্যবহারকারী তথ্যের মিল দেখতে পেলে প্রথমে কোন কোন তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে, তা মূল্যায়ন করা উচিত। ইমেইল ঠিকানা ফিশিং বার্তা পাঠাতে, ফোন নম্বর ভুয়া কল করতে, বাসা বা কর্মস্থলের ঠিকানা পরিচয়ের সঙ্গে তথ্য যুক্ত করতে এবং IP ঠিকানা প্রোফাইলের জন্য আরও তথ্য বের করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব তথ্য একই ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হলে প্রতারণামূলক বার্তাগুলো তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির সঙ্গে আরও বেশি মানানসই হয়ে ওঠে।
উৎস অযাচাইকৃত এবং ভুলভাবে চিহ্নিত হলেও ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে ‘Acxiom নয়’ ঘটনাটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। তথ্যের উৎস অস্পষ্ট হলেও নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর ও ঠিকানা একসঙ্গে থাকায় বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যবহারকারী ইমেইলের নিরাপত্তা জোরদার করলে, সন্দেহজনক বার্তা অন্য একটি যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে যাচাই করলে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত তথ্য দৃশ্যমান রাখা কমালে এই ঘটনা থেকে উদ্ভূত দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি
LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।
অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান