সব তথ্য ফাঁস
৯ জুলাই, ২০১৮ যাচাইকৃত সংবেদনশীল রেকর্ড অন্যান্য

ShareThis: তথ্য ফাঁস

ShareThis-এর তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি জুলাই 2018-এর একটি নিশ্চিত ঘটনা। এতে ShareThis ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট শেয়ার করার টুল এবং ওয়েব কনটেন্টে ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সেবা দেয়। নিশ্চিত হওয়া মূল পরিধি হলো 4,09,60,499টি স্বতন্ত্র ইমেইল অ্যাকাউন্ট। 2019-এর শুরুতে ব্যাপক পরিসরে তথ্য বিক্রির এক ধারাবাহিক ঘটনায় এই ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও, ShareThis-এর মূল্যায়ন সরাসরি এই সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাকাউন্টের তথ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত তথ্যের ধরনগুলো হলো জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, নাম-সংক্রান্ত তথ্য এবং পাসওয়ার্ড হ্যাশ। তাই ঝুঁকি শুধু পুরোনো ShareThis অ্যাকাউন্টেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্য সেবায় একই ইমেইল বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকলে অ্যাকাউন্ট দখল, ফিশিং, স্প্যাম এবং প্রোফাইল মিলিয়ে দেখার ঝুঁকি থেকে যায়।

৪১ মিলিয়ন
প্রতিবেদিত রেকর্ড
4
তথ্যের ধরন
অতি গুরুতর
গুরুতরতার মাত্রা
১০ অক্টো, ২০২৬
সর্বশেষ হালনাগাদ

নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

এই তথ্য ফাঁসে আপনি প্রভাবিত হয়েছেন কি না যাচাই করুন

আমার ইমেইল যাচাই করুন

উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন

4
  • জন্মতারিখ
  • ইমেইল ঠিকানা
  • নাম
  • পাসওয়ার্ড

এই তথ্য ফাঁস সম্পর্কে

ফাঁস হওয়া তথ্যের ধরন ও ঝুঁকি

যাচাই করা তথ্যের ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, নাম-সংক্রান্ত তথ্য এবং পাসওয়ার্ড। পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রটিকে হ্যাশ করা পাসওয়ার্ডের তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, সরাসরি পাঠযোগ্য পাসওয়ার্ড হিসেবে নয়। পাসওয়ার্ড হ্যাশ করা আছে মানেই সেটি সরাসরি পড়া যায় না; তবে দুর্বল, ছোট বা একাধিক জায়গায় ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড আক্রমণকারীরা অনুমান করতে পারে। একই পাসওয়ার্ড যদি ইমেইল, সামাজিক মাধ্যম, কেনাকাটা, প্রকাশক বা বিজ্ঞাপন টুলের অ্যাকাউন্টেও কার্যকর থাকে, তাহলে এই তথ্য ফাঁসের প্রভাব অন্য সেবায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে জন্মতারিখ ও নাম-সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে ব্যবহারকারীর জন্য ব্যক্তিগতভাবে সাজানো ভুয়া বার্তা তৈরির শক্ত ভিত্তি পাওয়া যায়। ShareThis-এর সেবাগুলো ওয়েবসাইট, শেয়ারিং টুল এবং অনলাইন বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আক্রমণকারীরা বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট, কনটেন্ট টুল, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার প্লাগইন বা অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের বিষয় নিয়ে বার্তা তৈরি করতে পারে। যাচাই না করা ব্যক্তির সংখ্যা, তথ্যের ক্ষেত্র এবং হামলাকারীদের দাবি এই ঘটনার প্রকাশ্য বিবরণে উল্লিখিত পরিধির অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ঝুঁকির বিবরণ কেবল নিশ্চিত হওয়া তথ্যের ক্ষেত্রগুলোর ভিত্তিতে তৈরি করা উচিত।

যাচাই করা পরিধি ও সীমা

ShareThis-এর ঘটনার ক্ষেত্রে LeakData-তে পরিধি 4,09,60,499টি স্বতন্ত্র ইমেইল অ্যাকাউন্ট হিসেবেই রাখা উচিত। বাইরের বিক্রয়তালিকায় অ্যাকাউন্ট রেকর্ডের সংখ্যা আনুমানিক 4 কোটি 10 লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে ব্যবহারকারীর সামনে উপস্থাপিত মূল সংখ্যাটি স্বতন্ত্র ইমেইল অ্যাকাউন্টের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। তথ্য ফাঁসের তারিখ হিসেবে 9 জুলাই 2018 এবং যাচাইকৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির তারিখ হিসেবে 3 মার্চ 2019 নথিভুক্ত রাখা উচিত। ঘটনার তারিখ ও যাচাইকৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির তারিখ নিয়ে ব্যবহারকারীর বিভ্রান্তি এড়াতে এই পার্থক্য বজায় রাখতে হবে।

পরিধি বলতে ShareThis অ্যাকাউন্টের তথ্য ছড়িয়ে পড়া, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার টুলের ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্যকে বোঝানো হয়েছে। এই ঘটনাকে পেমেন্ট কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সরকারি পরিচয়পত্র, অ্যাড্রেস বুক, ব্যক্তিগত বার্তা বা ব্রাউজিং ইতিহাস ফাঁসের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বিস্তৃত পরিসরে তথ্য বিক্রির ধারাবাহিক ঘটনার বিবরণ থাকায়, প্যাকেজের মোট সংখ্যাকে ShareThis ব্যবহারকারীর সংখ্যা হিসেবে জানানো উচিত নয়। এই পার্থক্য অযথা আতঙ্ক এড়াতে সাহায্য করে এবং ব্যবহারকারীকে সঠিক করণীয় জানায়।

ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারী গোষ্ঠী

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন যেসব ব্যবহারকারী ShareThis অ্যাকাউন্টের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টেও ব্যবহার করেন। একই লগইন তথ্য যদি ইমেইল অ্যাকাউন্ট, সামাজিক মাধ্যম, কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার টুল, বিজ্ঞাপন প্যানেল বা কেনাকাটার অ্যাকাউন্টেও কার্যকর থাকে, তাহলে আক্রমণকারীরা স্বয়ংক্রিয় লগইন চেষ্টার মাধ্যমে এসব অ্যাকাউন্টকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। জন্মতারিখ ও নাম-সংক্রান্ত তথ্য পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের প্রশ্ন, ভুয়া নিরাপত্তা বার্তা বা ব্যক্তিগতভাবে লেখা বলে মনে হয় এমন ফিশিং বার্তা তৈরির জন্যও বাড়তি উপকরণ জোগায়।

ওয়েবসাইটের মালিক, কনটেন্ট নির্মাতা, বিপণন দল এবং দীর্ঘদিন ধরে একই ইমেইল ঠিকানা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমের টুল ব্যবহার করছেন এমন ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা উচিত। পুরোনো ShareThis অ্যাকাউন্ট আর সক্রিয় না থাকলেও, একই ইমেইল ঠিকানা অন্য কাজের অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত হলে ঝুঁকি থেকে যায়। প্রতিষ্ঠানের ইমেইল ঠিকানা দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টগুলোকে প্রতিষ্ঠানের ডোমেইন লক্ষ্য করে আক্রমণকারীদের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চেষ্টায় কাজে লাগানো যেতে পারে। ব্যক্তিগত ইমেইল ঠিকানা দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে স্প্যাম, ভুয়া সদস্যপদের বিজ্ঞপ্তি এবং পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের অনুরোধের ঝুঁকি বেশি সামনে আসে।

জরুরি করণীয়

ShareThis-এর তথ্যে কোনো ব্যবহারকারীর ইমেইল ঠিকানা থাকলে, প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে ShareThis অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত পুরোনো পাসওয়ার্ডটি এখন আর কোনো সেবায় কার্যকর নেই। অন্য অ্যাকাউন্টে একই বা কাছাকাছি ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা, দীর্ঘ এবং অনুমান করা কঠিন এমন পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করা উচিত। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে একই পাসওয়ার্ড পুনরায় ব্যবহারের ঝুঁকি কমে। পাসওয়ার্ডের শেষে একটি বছর, একটি বিস্ময়চিহ্ন বা ছোট কোনো অংশ যোগ করাকে নিরাপদ পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা হয় না; পুরোনো ধরনটি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।

ইমেইল অ্যাকাউন্ট, সামাজিক মাধ্যম, কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, বিজ্ঞাপন প্যানেল এবং পেমেন্ট সেবাসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোতে দুই ধাপে পরিচয় যাচাই চালু করা উচিত। অপ্রত্যাশিত লগইন বিজ্ঞপ্তি, পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের অনুরোধ বা ShareThis কিংবা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার কোনো টুলের প্রসঙ্গযুক্ত লিংক পেলে, প্রেরকের ঠিকানা ও ডোমেইন আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত। একই ইমেইল ঠিকানা দিয়ে তৈরি পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। অব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা উচিত, অথবা স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টগুলো থেকে আলাদা রাখা উচিত। সন্দেহজনক লগইনের কোনো ইঙ্গিত থাকলে সেশনগুলো বন্ধ করতে হবে এবং অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ইমেইল ঠিকানাগুলো হালনাগাদ করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশল

ShareThis-এর তথ্য ফাঁস দেখায় যে অনলাইন টুলের পুরোনো অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কাজের, ব্যক্তিগত, সামাজিক মাধ্যম এবং বিপণন টুলের অ্যাকাউন্টগুলোতে ব্যবহারকারীদের একই পাসওয়ার্ড পুনরায় ব্যবহার করা উচিত নয়। ইমেইল ঠিকানা ও জন্মতারিখের মতো অপরিবর্তিত তথ্য বহু বছর পরও ফিশিংয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই পুরোনো অ্যাকাউন্টের তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত, আর প্রয়োজন নেই এমন সদস্যপদ বন্ধ করা উচিত এবং বাকি সক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো স্বতন্ত্র পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখা উচিত।

সেবাদাতাদের জন্য মূল শিক্ষা হলো আধুনিক ও ব্যয়সাপেক্ষ পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ পদ্ধতি দিয়ে পাসওয়ার্ড হ্যাশ সুরক্ষিত রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্র কমানো এবং তথ্য ফাঁসের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত জানানো। কোন তথ্যের ক্ষেত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোনগুলো যাচাই করা হয়নি এবং ঘটনাটি কবে ঘটেছে, এসব ব্যবহারকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। ShareThis-এর ক্ষেত্রে আর্থিক তথ্য বা সরকারি পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের ওপর প্রভাব যাচাই করা হয়নি। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে জানানোর ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং ফিশিংয়ের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রেকর্ড যাচাই ও ব্যবহারকারীর করণীয়

ফলাফলে মিল পাওয়া গেলে ইমেইল ঠিকানা, নাম-সংক্রান্ত তথ্য, জন্মতারিখ এবং পাসওয়ার্ড হ্যাশকে ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিবেচনা করতে হবে। মিল না পাওয়া গেলে তার অর্থ শুধু এই নির্দিষ্ট তথ্যসমষ্টিতে কোনো মিল পাওয়া যায়নি; এটি প্রমাণ করে না যে ওই ব্যক্তির তথ্য অন্য কোনো ফাঁসের ঘটনায় ছিল না। পাসওয়ার্ড ব্যবহারের একই অভ্যাস বজায় থাকলে পুরোনো ঘটনাও বর্তমান সময়ে ঝুঁকি তৈরি করতে থাকে।

সঠিক করণীয় হলো পুরোনো পাসওয়ার্ড পুরোপুরি বাদ দেওয়া, একই বা কাছাকাছি ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহৃত সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলানো, একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের সুরক্ষা দিয়ে ইমেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ করা এবং ShareThis বা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার টুলের প্রসঙ্গযুক্ত ভুয়া বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকা। একই ইমেইল ঠিকানা দিয়ে খোলা বিপণন, সামাজিক মাধ্যম, প্রকাশক এবং কনটেন্ট টুলের পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলোও ব্যবহারকারীর যাচাই করা উচিত। এসব পদক্ষেপ 2018-এর তথ্য ফাঁস থেকে বর্তমানে অ্যাকাউন্ট দখল বা লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংয়ের ঝুঁকি কমায়।

যাচাই ও সম্পাদনার পদ্ধতি

LeakData ঘটনাটির নাম, তারিখ, প্রভাবিত রেকর্ডের সংখ্যা এবং উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের ধরন উপলব্ধ উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। যাচাই করা হয়নি এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয় না, এবং নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।

অনুপস্থিত বা ভুল তথ্য জানান